যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে আনুমানিক ২.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী সাংবাদিক এরিক লিপটন এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল সম্পদ অর্জিত হয়েছে, যা স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।
এরিক লিপটন এবং তার সহকর্মীরা তাদের দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে দেখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প এমন সব ব্যবসায়িক চুক্তিতে লিপ্ত হয়েছেন, যা সরাসরি হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং তার দুই ছেলের বিরুদ্ধেও। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য লিপটন ও তার দলের সাংবাদিকরা এ বছর পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি, পারমাণবিক জ্বালানি এবং বিরল খনিজ উত্তোলনের মতো খাতগুলোতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবারের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। কাজাখস্তানে টাংস্টেন খনি খননের একটি বড় চুক্তির ক্ষেত্রেও এমন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের সহায়তায় এই চুক্তি হওয়ার পরপরই ট্রাম্পের ছেলেরা সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যায়বিচার বিভাগ (ডিওজে) নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের তলব করেছিল। বিশেষ করে কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিলাসবহুল বিমানের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে করা প্রতিবেদনের সূত্র অনুসন্ধানে এই তলব করা হয়। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবির মুখে সেই তলব পরবর্তীকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্টরা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা স্বাধীন ব্যবসায়ী এবং প্রেসিডেন্ট মূলত দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই কাজ করছেন। যদিও সমালোচকদের মতে, সরকারি নীতিনির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লাভের এই সংমিশ্রণ মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন।