যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তীব্র দাবদাহের কারণে কর্মক্ষেত্রে আরামদায়ক পোশাক পরা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গ্রীষ্মের গরমের মধ্যে অফিসে শর্টস, স্লিভলেস টপ বা স্যান্ডেল পরা কতটা শোভন এবং এ বিষয়ে নিয়োগকর্তার কতটুকু হস্তক্ষেপ করার সুযোগ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মীরা। কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কীভাবে পোশাক নির্বাচন করা যায়, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ এবং আইনজ্ঞরা।
পোশাক নিয়ে নানা মত
ইপসোস-এর একটি জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করেন তীব্র গরমে পুরুষদের অফিসে শর্টস পরা গ্রহণযোগ্য। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৬৩ শতাংশ। তবে ফ্যাশন ডিজাইনার আমান্ডা ওয়েকলি সতর্ক করে বলেন, অফিসের পরিবেশের জন্য শর্টস নির্বাচন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তার মতে, হাঁটু সমান দৈর্ঘ্যের টেইলরড শর্টস এবং এর সাথে শার্ট বা ব্লেজার পরলে তা পেশাদার মনে হতে পারে।
স্যান্ডেল এবং টপস
ফ্লিপ-ফ্লপ বা চটি জুতা অফিসের পরিবেশের জন্য অনুপযুক্ত বলে মনে করেন অধিকাংশ ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ। তবে চামড়ার পরিচ্ছন্ন স্যান্ডেল পরা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে স্ট্র্যাপি টপ বা স্লিভলেস পোশাক পরলে তা ব্লেজারের নিচে পরার পরামর্শ দিয়েছেন স্টাইলিস্টরা। এতে পোশাকের গাম্ভীর্য বজায় থাকে।
নিয়োগকর্তার অধিকার ও আইন
কর্মক্ষেত্রে পোশাকের মানদণ্ড নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার নিয়োগকর্তাদের রয়েছে, বিশেষ করে নিরাপত্তার প্রয়োজনে বা করপোরেট ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য। তবে কর্মসংস্থান বিষয়ক আইনজীবী সারা তাহামতানি জানান, এই নিয়মগুলো অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। তীব্র দাবদাহের সময়ে নিয়োগকর্তাদের উচিত পোশাকের নিয়মে কিছুটা নমনীয়তা আনা। এছাড়া কোনো কর্মী যদি মনে করেন যে পোশাকের নিয়ম তার স্বাস্থ্য বা কাজের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মানবসম্পদ বিভাগে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।