দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বায়ুদূষণের সঙ্গে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগীদের শারীরিক যন্ত্রণার একটি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের গবেষক ড. ইউন বং লি জানিয়েছেন, বিশেষ করে বাতাসে থাকা পিএম২.৫ নামক সূক্ষ্ম ধূলিকণা মানবদেহে প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়, যা আর্থ্রাইটিসের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অ্যানালস অব দ্য রিউম্যাটিক ডিজিজেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ধূলা, ধোঁয়া এবং কলকারখানার ধোঁয়া থেকে নির্গত এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলো মানুষের ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে মিশে যেতে পারে। এটি শরীরের কোষে চাপ সৃষ্টি করে এবং ডিএনএ-র ক্ষতিসহ প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
গবেষণার পদ্ধতি
গবেষকরা ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছর ধরে ১,০৭০ জন আর্থ্রাইটিস রোগীর ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। এই সময়ে রোগীদের ১২,৫৮৩টি আউটপেশেন্ট ভিজিটের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, ওজন, কার্বন মনোক্সাইড এবং পিএম১০ ও পিএম২.৫-এর মতো ছয়টি বায়ুদূষক উপাদানকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব রোগী দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উচ্চমাত্রার পিএম২.৫ দূষণের সংস্পর্শে ছিলেন, তাদের মধ্যে আর্থ্রাইটিসের ব্যথার প্রকোপ বা ফ্লেয়ারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গুরুত্ব ও করণীয়
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিশেষজ্ঞ ড. জেফরি এ. স্পার্কস এই গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বায়ুদূষণ যে কেবল ফুসফুসের ক্ষতি করে না, বরং বাত বা আর্থ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগের অবনতি ঘটাতে পারে, তা এই গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বায়ুর মান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত। বিশেষ করে দূষিত এলাকায় দীর্ঘসময় অবস্থান এড়িয়ে চলা রোগীদের যন্ত্রণামুক্ত থাকতে সহায়তা করতে পারে। তবে এই ফলাফল কোরিয়ার প্রেক্ষাপটে পাওয়া গেলেও, অন্যান্য দেশের রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।