যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ ডট কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরিকার্ডাইটিস হলো হৃদপিণ্ডের চারপাশের পাতলা টিস্যুর স্তরে বা ঝিল্লিতে হওয়া এক ধরণের প্রদাহ। হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগীর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা গ্রহণ হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
পেরিকার্ডাইটিস কী?
হৃদপিণ্ড যে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট থলির মধ্যে থাকে, তাকে পেরিকার্ডিয়াম বলা হয়। যখন এই থলিটিতে প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া তৈরি হয়, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেরিকার্ডাইটিস বলা হয়। সাধারণত এই ঝিল্লির স্তরগুলোর মাঝে তরল পদার্থ থাকে যা হৃদপিণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রদাহের কারণে সেখানে ঘর্ষণ তৈরি হয় এবং তীব্র বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
উপসর্গ ও লক্ষণ
পেরিকার্ডাইটিসের প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে ধারালো বা সুঁচ ফোটানোর মতো ব্যথা। অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথা কাঁধ বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। শ্বাস নেওয়ার সময় বা শোয়া অবস্থায় এই ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে। এছাড়া হালকা জ্বর, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টও এই রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কারণ ও ঝুঁকি
ভাইরাস সংক্রমণ পেরিকার্ডাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এছাড়াও হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক সার্জারি, অটোইমিউন রোগ বা গুরুতর কোনো আঘাতের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এই প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যাকে ইডিওপ্যাথিক পেরিকার্ডাইটিস বলা হয়।
চিকিৎসা ও সতর্কতা
পেরিকার্ডাইটিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর তীব্রতার ওপর। সাধারণত চিকিৎসকরা প্রদাহ কমানোর জন্য ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তীব্র ক্ষেত্রে বিশ্রামের পাশাপাশি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত, কারণ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।