জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন একটি প্রাচীন ইমিউন প্রোটিন শনাক্ত করেছেন, যা ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক ও মেডিসিন গ্র্যাজুয়েট স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ইউকি মিয়াই জানিয়েছেন, রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা বিবর্তিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই শরীরে এই ‘কমপ্লিমেন্ট সি৩’ (C3) প্রোটিন বিদ্যমান ছিল। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যখন এই প্রোটিন টিউমারের ভেতরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়, তখনই এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, রক্তপ্রবাহে থাকা সি৩ প্রোটিন চিকিৎসার সাফল্যের ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না। বরং টিউমার কোষের চারপাশে থাকা ফাইব্রোব্লাস্ট থেকে উৎপন্ন সি৩ প্রোটিন টিউমারের ভেতরে ক্ষতিকর মাইলোয়েড কোষের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যান্সার কোষগুলোকে সহজে শনাক্ত ও আক্রমণ করতে পারে। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব টিউমারে এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ইমিউনোথেরাপি তুলনামূলক কম কার্যকর ছিল।
ফুসফুসের ক্যান্সার রোগীদের টিউমার নমুনায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। যেসব রোগীর টিউমার টিস্যুতে সি৩ প্রোটিনের মাত্রা বেশি ছিল, তাদের ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা এবং বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বিপরীতে, কম মাত্রার সি৩ প্রোটিন সম্পন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসায় তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
গবেষক দল এখন টিউমারের ভেতর সি৩ প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নিয়ে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন সব ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব হতে পারে, যা বর্তমানে ইমিউনোথেরাপিতে সাড়া দেয় না। এছাড়া ক্ষত নিরাময় এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মতো জৈবিক প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সি৩ প্রোটিনের ভূমিকা নিয়েও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।