যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ ডট কমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীরের সঠিক ভঙ্গি বজায় রেখে ঘুমানো মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভুল ভঙ্গিতে ঘুমের কারণে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। মেরুদণ্ড সুরক্ষিত রাখতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে পাঁচটি বিশেষ অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো
মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা ঠিক রাখতে পিঠের ওপর ভর দিয়ে চিত হয়ে ঘুমানো সবচেয়ে কার্যকর। এতে শরীরের ওজন সমানভাবে বণ্টিত হয় এবং ঘাড় বা পিঠের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। এই ভঙ্গিতে ঘুমানোর সময় হাঁটুর নিচে একটি পাতলা বালিশ দিলে মেরুদণ্ডের নিচের অংশ আরও বেশি আরাম পায়।
পাশ ফিরে ঘুমানো
অনেকের জন্য পাশ ফিরে ঘুমানো সবচেয়ে আরামদায়ক। বিশেষ করে দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ রাখলে কোমরের হাড়ের ভারসাম্য ঠিক থাকে। এতে মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং হিপ বা নিতম্বে ব্যথার ঝুঁকি কমে।
ভ্রূণের ভঙ্গিতে ঘুমানো
শরীরের দুই হাঁটু বুকের কাছে টেনে এনে গুটিসুটি মেরে ঘুমানোর ভঙ্গিটি অনেকের পছন্দ। এটি মেরুদণ্ডের ফাঁকগুলোকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা মূলত পিঠের ব্যথায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক। তবে খুব বেশি কুঁকড়ে না থেকে শরীরকে কিছুটা শিথিল রাখা প্রয়োজন।
উপাতল ভঙ্গি ও সতর্কতা
পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানোকে সাধারণত মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়। তবে যদি কেউ এই অভ্যাসের কারণে ঘুমাতে না পারেন, তবে পেটের নিচে একটি সমতল বালিশ ব্যবহার করতে পারেন। এতে কোমরের ওপর চাপ কিছুটা কম পড়বে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
শরীরের মেরুদণ্ড মানুষের পুরো কঙ্কালতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর চাপ পড়ে এবং স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। সঠিক ভঙ্গি নির্বাচনের মাধ্যমে ঘুমের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।