যুক্তরাজ্যের তিন লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এক বিশাল গবেষণায় উঠে এসেছে, অ্যালকোহল পানের ক্ষেত্রে কেবল পরিমাণ নয়, বরং পানের ধরনও স্বাস্থ্যের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন চীনের সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড জিয়াংয়া হাসপাতালের অধ্যাপক ও গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. ঝাংলিং চেন। গবেষণার গুরুত্ব হলো, এটি অ্যালকোহল সেবনের সাথে দীর্ঘায়ু এবং হৃদস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, যারা বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পানীয়ের ধরন যাই হোক না কেন, মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে কম বা পরিমিত মদ্যপানের ক্ষেত্রে ফলাফল ভিন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিমিত পরিমাণে ওয়াইন পান করেন, তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি যারা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলেন তাদের তুলনায় ২১ শতাংশ কম। বিপরীতে, বিয়ার, সাইডার বা স্পিরিট জাতীয় পানীয় কম পরিমাণে পান করলেও তা হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ৯ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষকরা ২০০৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউকে বায়োব্যাংক স্টাডিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৬ শতাংশ এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেশি।
কেন ওয়াইন আলাদা?
গবেষকদের মতে, রেড ওয়াইনে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করতে পারে। এছাড়া জীবনযাত্রার ধরণও একটি বড় কারণ। ওয়াইন সাধারণত খাবারের সাথে এবং উন্নত খাদ্যভ্যাসসম্পন্ন মানুষরা পান করেন। অন্যদিকে, বিয়ার বা স্পিরিট পানকারীরা প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত থাকেন, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা, তাই কোনো নির্দিষ্ট পানীয় সরাসরি মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো বা বাড়ানোর কারণ—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে অংশগ্রহণকারীদের বিশাল সংখ্যা এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণের কারণে এই ফলাফল স্বাস্থ্যবিষয়ক দিকনির্দেশনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।