ঢাকাFriday , 25 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

অকার্যকর চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান: আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাবেন কীভাবে

Truth Post
August 10, 2026 2:45 pm
Link Copied!

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ এবং আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পর্ষদ বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন কাঠামোর পথ তৈরি হলো।

কেন অকার্যকর ঘোষণা করা হলো
দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং দায় পরিশোধে অক্ষমতা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৯৩ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর্থিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তাই সরাসরি অবসায়নের বদলে নতুন আইন অনুযায়ী রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ধাপ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থ ফেরত প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তায় ফেরত দেওয়া হবে। এর জন্য সরকার প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। তৃতীয় ধাপে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে আমানতকারীদের বাকি পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।

পাওনা নিয়ে করণীয়
প্রথম ধাপে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত আমানত ফেরত নয়, বরং এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা। কারও পাওনা ১০ লাখ টাকার বেশি হলে, অবশিষ্ট টাকা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির ওপর নির্ভর করবে। এ অবস্থায় আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে মেয়াদি আমানতের সনদসহ যাবতীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রলোভনে পা না দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিয়োগকৃত প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ
পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকায় তা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়াও আর্থিক সক্ষমতা উন্নতির জন্য আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন এই রেজল্যুশন প্রক্রিয়াটি মূলত দীর্ঘদিনের অনিয়মে আটকে থাকা আমানতকারীদের অর্থ উদ্ধারের একটি আইনি পরীক্ষা, যার সফলতা নির্ভর করবে খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যকারিতার ওপর।