কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে একসময়ের সাধারণ জেলে রিজভী এখন মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আমদানিকারক ও কারবারির হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, রিজভী মিয়ানমারের মাদক কারবারিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা সরবরাহ করেন। ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ, যা এই সীমান্ত অঞ্চলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উত্থানের পটভূমি
রিজভীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা আগে অত্যন্ত সাধারণ ছিল। তার বাবা নুরুল আলমের প্রধান সম্বল ছিল একটি মাছের প্রজেক্ট ও সামান্য কিছু কৃষিজমি। অভাবের কারণে চতুর্থ শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি রিজভী। কিশোর বয়সে নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তার নাম ছোটখাটো ডাকাতির সাথেও জড়িয়েছিল। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে তার জীবনযাত্রায় বিশাল পরিবর্তন আসে।
গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়
অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে পালংখালীসহ আশপাশের এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ একর জমি। এছাড়া চকরিয়ায় দুটি পাঁচতলা বাড়ি, কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় রয়েছে তার জমি ও ফ্ল্যাট। পরিবহণ ব্যবসায় তার একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। তার গ্যারেজে রয়েছে একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি, ডাম্পার ও বাস। পাশাপাশি শতাধিক সিএনজি ও কয়েকটি বড় খামার এবং চিংড়ি প্রজেক্টে তিনি বিনিয়োগ করেছেন।
কারবার পরিচালনার কৌশল
সীমান্তের মাদক কারবারিরা মূলত পালংখালীর ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা দেশের ভেতরে নিয়ে আসে। রিজভীর নিয়ন্ত্রণে থাকা লোকজন সীমান্ত পয়েন্ট থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে। পরে বাহকদের মাধ্যমে তা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি কৌশল পরিবর্তন ও বাহক বদলসহ নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বন করেন। সাম্প্রতিক একটি অভিযানে ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তার নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সমাজকর্মীদের মতে, রিজভীর এই অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, মাদক কারবারের সাথেই তার এই বিত্তবৈভবের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন জানিয়েছেন, একসময় রিজভী ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে স্থানীয় দলীয় কয়েকজন নেতা এই মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে রিজভীর বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।