ইসলামি সংস্কৃতিতে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বা ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কেবল ছুটির দিন নয়, বরং আত্মিক শুদ্ধি ও পাপমুক্তির একটি বিশেষ সুযোগ। জুমার দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০টি বিশেষ আমল পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও গোসল
জুমার দিনের শুরুতে নখ কাটা এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় পশম পরিষ্কার করা সুন্নতি অভ্যাস। এছাড়া উত্তমরূপে গোসল করা এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা একজন মুসলিমকে ইবাদতের জন্য সতেজ ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখে।
পরিষ্কার পোশাক ও সুগন্ধি
সাপ্তাহিক এই উৎসবে উত্তম ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং মিসওয়াক করার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর কর্তব্য।
সুরা কাহফ ও দরুদ পাঠ
জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে বিশেষ আলোকচ্ছটা লাভ হয়। পাশাপাশি এদিন প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা সওয়াবের কাজ, কারণ মুমিনের দরুদ সরাসরি তাঁর কাছে পেশ করা হয়।
মসজিদে গমন ও খুতবা শ্রবণ
সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। মসজিদে হেঁটে যাওয়া প্রতিটি কদমে পাপ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। ইমামের খুতবা চলাকালীন সম্পূর্ণ নীরব থেকে মনোযোগসহ তা শ্রবণ করা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা বা কাউকে চুপ করতে বলাও নিষেধ।
যথানিয়মে নামাজ আদায় ও দোয়া
জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা আবশ্যক। এছাড়া জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যা সাধারণত আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এই সময়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা অত্যন্ত কল্যাণকর।