যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকরা মানুষের মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে এক নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে শরীরের রক্তপ্রবাহ থেকে প্রচুর পরিমাণে রোগ প্রতিরোধকারী বা ইমিউন কোষ প্রবেশ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি দিয়েছেন স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের প্যাথলজি বিভাগের পোস্টডক্টরাল স্কলার জুলিয়া বেল্ক এবং তার সহযোগী গবেষকদল। এই আবিষ্কার মস্তিষ্কের বার্ধক্য সম্পর্কে প্রচলিত দীর্ঘদিনের ধারণাকে বদলে দিয়েছে এবং স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা এবং বিচ্ছিন্ন। বিশ্বাস করা হতো, মস্তিষ্কের নিজস্ব ইমিউন কোষ বা মাইক্রোগ্লিয়া জন্মের সময় তৈরি হয় এবং সারাজীবন সেগুলো বাইরে থেকে আসা কোষ ছাড়াই টিকে থাকে। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়স থেকেই শরীরের রক্তপ্রবাহ থেকে ইমিউন কোষ মস্তিষ্কে প্রবেশ করা শুরু করে এবং সেগুলো মাইক্রোগ্লিয়া কোষে রূপান্তরিত হয়।
গবেষকরা মানুষের মস্তিষ্ক ও রক্ত নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা দেখেছেন, রক্তে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট কিছু মিউট্যান্ট কোষ মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মস্তিষ্কের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে। গবেষক জুলিয়া বেল্ক জানান, সাধারণত মস্তিষ্ককে একটি বদ্ধ ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়ায় রক্ত থেকে ইমিউন কোষের প্রবেশ একটি স্বাভাবিক ঘটনা।
এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। গবেষক সিদ্ধার্থ জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, রক্ত ও অস্থিমজ্জার স্বাস্থ্য সরাসরি মস্তিষ্কের মাইক্রোগ্লিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। যেহেতু রক্ত থেকে আসা এই কোষগুলো মস্তিষ্কের ভেতরে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, তাই ভবিষ্যতে আলঝেইমারসহ অন্যান্য স্নায়বিক রোগ প্রতিরোধের কৌশল তৈরিতে এই কোষগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়ার একটি স্বতন্ত্র ও নতুন বৈশিষ্ট্য যা আগে অজানা ছিল। এই গবেষণার ফলাফল নেচার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।