ঢাকাTuesday , 28 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

পাবনায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে দুই কমিটি

Link Copied!

পাবনার বেড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিংয়ের খাবার আত্মসাতের অভিযোগে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকল্পের আওতায় আসা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বরাদ্দ দেওয়া খাবার শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়মবহির্ভূতভাবে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের অনিয়ম ও প্রেক্ষাপট
বেড়া উপজেলায় ২০২৫ সালে শুরু হওয়া বিশেষ এই প্রকল্পের আওতায় ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৪ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। শিক্ষা অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, গড়ে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার ভিত্তিতে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার শিশুর জন্য খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে চিত্র
বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। গোবিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় থাকলেও দুপুরে মাত্র ১৮ জন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। একইভাবে রূপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৪ জনের বিপরীতে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল মাত্র ২০-২৫ জন। ৩৬ নম্বর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও হাজিরা খাতা এবং প্রকৃত উপস্থিতির মধ্যে বিশাল পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। অনুসন্ধানের সময় শিক্ষকদের খাবার গ্রহণ ও তা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে।

শিক্ষকদের বক্তব্য
অভিযুক্ত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিতির তুলনায় খাবার উদ্বৃত্ত থাকার কথা স্বীকার করলেও তা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কোনো কোনো শিক্ষকের দাবি, উদ্বৃত্ত খাবার শিক্ষার্থীদেরই দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে এই খাবার নিজেরা ভোগ করেন এবং বাড়িতেও নিয়ে যান। ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না।

পরবর্তী পদক্ষেপ
অভিযোগের ভিত্তিতে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা জানিয়েছেন, খাদ্য বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিগুলোকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।