বাংলাদেশের রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় কাওসার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৩০)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুষ্টিয়ার হার্ডি এবং রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ পুলিশের রাজশাহী অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নৌকাডুবিতে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ জাহেরা বেগম জানিয়েছেন, নদীমাতৃক জীবনে এ নিয়ে চারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও এবার তিনি তার আপনজনদের রক্ষা করতে পারেননি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মাঝনদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালালেও প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার পাকশী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় কাওসার আলীর এবং দুপুরে রাজশাহীর পবার সাতবাড়িয়া চর এলাকা থেকে জিয়ারুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কাওসার আলীর স্ত্রী জাহেরা বেগম জানান, তারা পেশাগত কাজে চরের ঝাউগাছ কেটে ফেরার পথে ঝড়ের কবলে পড়েন। জাহেরাসহ ছয়জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কাওসার ও জিয়ারুল তলিয়ে যান। এর আগে প্রায় দশ বছর আগে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো এই পরিবারটি ধারদেনা করে নৌকাটি কিনে জীবিকা নির্বাহ করছিল।
পরিবারটির ওপর নেমে আসা এই সংকটে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রবি জানিয়েছেন, জাহেরা বেগমের পিতৃহারা দুই নাতনির দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রাণহানি এড়াতে মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।