যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের চ্যাপেল হিলে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা জানিয়েছেন, পালং শাক, আমন্ড এবং মিষ্টি আলুর মতো স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা একটি প্রাকৃতিক উপাদান অন্ত্রের প্রদাহ বা আইবিডি (Inflammatory Bowel Disease) আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। ক্রন’স ডিজিজ এবং আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীদের অন্ত্রে এই উপাদানটি যেভাবে প্রক্রিয়া হয়, তা অন্যদের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় এমনটি ঘটে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. আনা সালভাদর। গবেষক দলটি অন্ত্রের প্রদাহে আক্রান্ত এবং সুস্থ ব্যক্তিদের জিনগত সক্রিয়তা, মলের অক্সালেট মাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, আইবিডি আক্রান্তদের অন্ত্রের টিস্যুতে অক্সালেট পরিবহনের দায়িত্বে থাকা প্রোটিন (SLC26A2 এবং SLC26A3) স্বাভাবিকের চেয়ে কম সক্রিয় থাকে।
গবেষকদের তথ্যমতে, অন্ত্রের এই পরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অক্সালেট শরীর থেকে সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না, যা অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ক্রন’স ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সুস্থ ব্যক্তিদের সমপরিমাণ উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করার পরেও তাদের মলে অক্সালেটের মাত্রা অনেক বেশি। এর থেকে এটি স্পষ্ট যে, আইবিডি রোগীদের অন্ত্র অক্সালেট প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষেত্রে মৌলিক সমস্যায় ভুগছে।
প্রাণীদেহে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অক্সালেট গ্রহণ করা কোলাইটিস আক্রান্ত ইঁদুরগুলোর বেঁচে থাকার হার ৬০ শতাংশ কম। এছাড়া কোষের পরীক্ষায় দেখা গেছে, অক্সালেট অন্ত্রের সুরক্ষায় নিয়োজিত রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়াকে তীব্র করে তোলে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এর মানে এই নয় যে আইবিডি রোগীদের সব উদ্ভিজ্জ খাবার বন্ধ করতে হবে। বরং এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে আইবিডি চিকিৎসায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে, যেখানে রোগীর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বা অক্সালেট শোষণের ক্ষমতা বিবেচনা করে খাদ্যাভ্যাসের পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।