যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সম্প্রতি জনপ্রিয় নিকোটিন পাউচ ব্র্যান্ড ‘জিন’ (Zyn)-কে সিগারেটের তুলনায় ‘কম ঝুঁকিপূর্ণ’ পণ্য হিসেবে বিপণনের অনুমোদন দিয়েছে। এফডিএ-এর সেন্টার ফর টোব্যাকো প্রোডাক্টস-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ব্রেট কোপলো জানিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা যাতে তামাকজাত পণ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জিন ব্যবহার করলে মুখের ক্যানসার, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, স্ট্রোক, এমফিসেমা ও ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের ঝুঁকি কমে—এমন দাবি করার অনুমতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডার্টমাউথ গেইসেল স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক মিচ জেলার বলেন, তামাক পোড়ানো ধোঁয়ার চেয়ে এই পাউচগুলো নিঃসন্দেহে কম ক্ষতিকর। যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তাদের জন্য এটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। জিন-এর মূল প্রতিষ্ঠান ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা ব্রায়ান এরকিলার মতে, এটি অনেক ধূমপায়ীকে সিগারেট ছাড়তে সহায়তা করেছে।
তবে এই অনুমোদনের ফলে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির পেডিয়াট্রিকস অধ্যাপক বনি হালপার্ন-ফেলশার বলেন, বর্তমান ধূমপায়ীদের জন্য এটি ক্ষতি কমানোর উপায় হলেও, নতুন প্রজন্মের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো অজানা। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, জিনের মতো পাউচগুলো ধূমপানের বিকল্প হিসেবে তৈরি হলেও এর ফ্লেভার ও নান্দনিক বিপণন কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রবার্ট জ্যাকলারের মতে, জিনকে ‘কুল’, ‘স্মুথ’ বা ‘চিল’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে লাইফস্টাইল পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা আসক্তি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিকোটিন পাউচ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মুখপাত্র এমিলি হিলিয়ার্ড পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, কোনো তামাকজাত পণ্যই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয় এবং সরকার ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞারা সতর্ক করে বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশে নিকোটিন মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই তরুণদের এসব থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।