ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাদ্রাসার ৮ ছাত্রী নিহত

Link Copied!

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বুধবার দুপুরে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসার আটজন ছাত্রী নিহত হয়েছে। ঘটনার সময় মাদ্রাসার ভেতরে থাকা আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে ১৪ এপিবিএন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ক্যাম্পের বাসিন্দাদের তথ্যমতে, বুধবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের ‘এ-৫’ ব্লকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে নিচে অবস্থিত ‘খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসা ও হিফজ খানা’র ওপর আছড়ে পড়ে।

মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা মাবুদ জানান,

“দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসার ভেতরে ৩০ থেকে ৫০ জনের মতো ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। পাহাড়ধস শুরু হতেই কয়েকজন ছাত্রী দ্রুত দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও, সিংহভাগ শিক্ষার্থীই মুহূর্তের মধ্যে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।”

ঘটনার পরপরই ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল এবং ১৪ এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া আব্দুল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক জানান,

“আমরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। তবে মাটির যে অবস্থা, তাতে এখনো অনেক শিশু ভেতরে আটকে থাকতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। আমরা আটজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি, প্রাথমিক ভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।”

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে অতিবৃষ্টি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। বর্তমানে হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রম ও ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

• নিহতের সংখ্যা: ৮ জন (পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান)
• জীবিত উদ্ধার: ৪ জন
• নিখোঁজ: বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী
• উদ্ধারকারী সংস্থা: ফায়ার সার্ভিস, ১৪ এপিবিএন ও স্থানীয় বাসিন্দা

কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্প এলাকার পাহাড়ের ঝুঁকি কমিয়ে বসতি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে আসছেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বুধবার বিকেল ৫:৩০ মিনিট নাগাদ ধসে পড়া মাটির নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান চলমান রয়েছে। মাটি চাপা পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা সম্ভব না হলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।