যুক্তরাজ্যে তীব্র দাবদাহের মধ্যে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ছাড়াই ঘর ও শরীর ঠান্ডা রাখার কার্যকর উপায় জানিয়েছেন জেডিনেটের সিনিয়র কন্ট্রিবিউটিং এডিটর অ্যাড্রিয়ান কিংসলে-হিউজ। ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড ভঙ্গকারী তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে বিশ্বজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি এসব পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘর ঠান্ডা রাখার কৌশল
কিংসলে-হিউজের মতে, ঘর ঠান্ডা রাখার মূল চাবিকাঠি হলো বাইরের তাপ ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া। দিনের বেলা সূর্যমুখী জানালার পর্দা বা ব্লাইন্ড বন্ধ রাখা এবং রাতে জানালা খুলে দিয়ে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাপ প্রতিফলিত করে এমন ফয়েল বা ব্ল্যাকআউট পর্দা জানালার বাইরের দিকে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ফ্যানের সীমাবদ্ধতা
সাধারণ ফ্যান বাতাস চলাচলে সহায়তা করলেও তা ঘরের তাপমাত্রা কমাতে পারে না। বিশেষ করে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার উপরে ফ্যান কেবল গরম বাতাসই ছড়ায়। তবে টাওয়ার অসিলেটিং ফ্যান সাধারণ টেবিল ফ্যানের চেয়ে বেশি কার্যকর বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজনে লাইব্রেরি বা ক্যাফের মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাবলিক স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
তীব্র গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা এবং টুপি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। শরীর ঠান্ডা রাখতে স্প্রে বোতলের মাধ্যমে ত্বকে পানির ছিটা দেওয়া বা ভেজা তোয়ালে দিয়ে শরীরের পালস পয়েন্টগুলো (ঘাড়, কবজি, বগল) মুছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া থার্মো ইলেকট্রিক কুলার (TEC) মডিউলযুক্ত ছোট পকেট ফ্যানগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সরাসরি ত্বকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়।
পানিশূন্যতা রোধ ও সতর্কতা
তীব্র গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই। চা বা কফি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে। দিনের বেলা অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হওয়া, মাথা ঘোরানো বা বমি ভাব দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কিংসলে-হিউজ। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রা ও শরীরের অস্বভাবী পরিবর্তনের মতো হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।