যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বব কাস্টার্ড এবং এপিডেমিওলজিস্ট সুসান মেইন জানিয়েছেন, ফেডারেল পর্যায়ে অর্থায়ন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। মূলত মেক্সিকো থেকে আসা দূষিত আইসবার্গ লেটুস পাতা এই রোগের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট কাটছাঁটের ফলে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বব কাস্টার্ডের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এমনভাবে অকেজো করা হয়েছে যেন ঘর থেকে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র বা স্মোক ডিটেক্টর সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে রোগ শনাক্তকরণ, তদন্ত এবং সংক্রমণ রোধের প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
সরকারি কর্মকাণ্ডে প্রভাব
প্রাক্তন এফডিএ কর্মকর্তা সুসান মেইনের দাবি, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ব্যয় সংকোচনের ফলে জনস্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সিডিসি ও এফডিএর গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে ইউএসএআইডির মতো সংস্থার সহায়তা বন্ধ হওয়ায় পরজীবী সংক্রান্ত গবেষণায় অর্থায়নের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া সিডিসির খাদ্য নিরাপত্তা নজরদারি কর্মসূচি ‘ফুডনেট’ থেকেও বেশ কিছু প্যাথোজেনের তালিকা বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় কর্মী পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, খাদ্য পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ বা ট্রেসেবিলিটি নিয়ম কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। কার্যকর ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকলে দূষিত লেটুসের উৎস দ্রুত চিহ্নিত করে হাজার হাজার মানুষকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।