যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ইতি টানতে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা বা ‘গোস্টিং’ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ওয়্যারড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজেদের সম্পর্কের তিক্ততা এড়াতে বা সহজ সমাধানের আশায় অনেকে সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে না জানিয়েই সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। এই প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, সরাসরি মুখোমুখি বিচ্ছেদের চেয়ে এভাবে সম্পর্ক থেকে সরে আসা তাদের কাছে মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে।
শিকাগোর বাসিন্দা ডিন চার বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন তার সঙ্গিনীকে কোনো পূর্ববার্তা না দিয়ে। ডিন জানান, মতপার্থক্যের কারণে তিনি তার সঙ্গিনীকে ব্লক করে দেন এবং পরে কোনো অনুশোচনা ছাড়াই তিনি এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেন। সিয়াটলের অ্যাশলি নামের আরেক ব্যক্তি জানান, সম্পর্কের তিক্ততা এড়াতে তিনি চার বছর পর হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
মনোবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্ম ডেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভ্যস্ত হওয়ায় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের আচরণকে সহজভাবে দেখছে। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিষয়ের অধ্যাপক লিয়েল শারাবির মতে, ডিজিটাল যুগে মানুষের মানবিকতা ও নৈতিকতা হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সব সময় এটি নিছক হীনম্মন্যতা নয়। অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর বা নিপীড়নমূলক সম্পর্ক থেকে বাঁচতে মানুষ এই পথ বেছে নিচ্ছে। আবার কারো কারো জন্য এটি এক ধরনের নেতিবাচক মানসিক কৌশলের অংশ, যেখানে তারা সংঘাত এড়িয়ে চলতে চায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, গোস্টিংয়ের শিকার হওয়া এবং যারা গোস্টিং করছেন—উভয় পক্ষই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।