ভারতীয় উপমহাদেশের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের অন্যতম বড় উৎস ডাল, তবে সব ডালে প্রোটিনের পরিমাণ সমান নয়। ২০২৩ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ডালে কলাইয়ের ডালে ২৫.২১ গ্রাম, মসুর ডালে ২৪.৬৩ গ্রাম, মুগ ডালে ২৩.৮৬ গ্রাম এবং ছোলার ডালে ২০.৪৭ গ্রাম প্রোটিন বিদ্যমান। পুষ্টির এই বিচারে কলাই ও মসুর ডাল তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
অন্ত্র ও হরমোন বিশেষজ্ঞ ডক্টর আলকা বিজয়ন জানান, প্রোটিনের পরিমাণের বাইরেও এই ডালগুলোর ভিন্ন স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। মসুর ডাল যকৃতের কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বক ও কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর এবং অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় উপকারী। অন্যদিকে কলাইয়ের ডাল রক্তপ্রবাহ সচল রাখতে ও হাড়ের সমস্যায় ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শুধু ডাল ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে গণ্য হয় না। প্রোটিন গঠনের প্রয়োজনীয় ৯টি অ্যামিনো অ্যাসিডের মধ্যে ডালে লাইসিন বেশি থাকলেও মিথিওনিন কম থাকে। অন্যদিকে ভাত বা গমে মিথিওনিন বেশি থাকে কিন্তু লাইসিন কম থাকে। এজন্যই ঐতিহ্যগতভাবে ডাল-ভাত বা ডাল-রুটি একসাথে খাওয়ার রীতি প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ পুষ্টি নিশ্চিত করে।